Ads

চালের দাম বাড়ছে, চাপে গরিব মানুষ

চালের দাম বাড়ছে, চাপে গরিব মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

চাল বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য। কিন্তু সম্প্রতি চালের দাম বাড়ার কারণে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। একদিকে আয় বাড়ছে না, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি চালের দামও লাগামছাড়া হয়ে উঠেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে এসেছে ৮ লাখ ৩৫ হাজার টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টন। এছাড়া বোরো মৌসুমে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

সরকারি সংস্থা টিসিবি জানায়, মোটা চালের কেজি এক মাস আগেও যেখানে ৫০ টাকা ছিল, এখন তা ৫৫ টাকায় উঠেছে। মাঝারি চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০-৬৫ টাকা, আর সরু মিনিকেট বা বাশমতিসদৃশ চালের কেজি ৭৫-৮৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাস্তব বাজারে এই দাম আরও বেশি, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পাইজাম, বিআর-২৮, মোটা বা মাঝারি চাল কিনতে হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে। ২৫ কেজির বস্তা কিনতে গেলে আগের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।

 

রাজধানীর কাজীপাড়ার গৃহিণী তানিয়া বেগম বলেন, ঈদের আগে যে চালের বস্তা ২ হাজার ১৫০ টাকায় পেয়েছিলেন, এখন তা কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকার মতো। সংসারের অন্য খরচও বাড়ছে, কিন্তু আয়ের কোনো গতি নেই। এই অবস্থায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দিন চলে অনিশ্চয়তায়। শুধু শহরে নয়, জেলা শহর ও মফস্বল এলাকায়ও চালের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মিলগেট থেকেই চালের দাম বাড়ছে, ফলে বিক্রিও বাধ্য হয়ে বেশি দামে করতে হচ্ছে।

বোরো মৌসুমে সাধারণত চালের দাম কিছুটা কমে। কারণ এই মৌসুমেই দেশের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি হয়। কিন্তু এবার মে মাস পার না হতেই জুনেই চালের বাজার গরম হতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—চাল আমদানির শুল্ক বাড়ানো, বাজারে আমদানি কার্যক্রমের অনিশ্চয়তা, সরবরাহ ঘাটতি এবং অভ্যন্তরীণ মজুতদারদের প্রভাব।

গত বছর আগস্টে বন্যার কারণে আমন মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। তখন সরকার শুল্ক কমিয়ে ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। সেই সিদ্ধান্তের ফলেই ১৩ লাখ টন চাল আমদানি হয়, যার বেশির ভাগই আসে সরকারি উদ্যোগে। কিন্তু এরপর চাল আমদানির অনুমতি ও শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে এ বছর নতুন করে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে চাল আমদানিতে মোট শুল্ক–কর দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭.৫ শতাংশ, যা চালের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

বিশ্ববাজারে চালের দাম কমেছে। যেমন, থাইল্যান্ডের চালের প্রতি টনের দাম ছিল ৫৮৬ ডলার, যা এখন নেমে এসেছে ৪১৯ ডলারে। একইভাবে ভিয়েতনামের চালের দামও কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে সেই প্রভাব পড়ছে না। কারণ, দেশীয় বাজারে আমদানির সুযোগ সীমিত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় চালের দামও তুলনামূলকভাবে কম। বর্ধমান অঞ্চল থেকে রপ্তানি হওয়া চালের কেজি ৩৪ রুপি, যা বাংলাদেশে আনতে খরচ হয় ৫৩-৫৪ টাকা। অথচ দেশে সেই চালও নেই।

আমদানিতে বাধা থাকায় দেশের ব্যবসায়ীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বাজার চালাচ্ছেন। অনেকে আগেভাগে বিপুল পরিমাণ ধান-চাল কিনে মজুত করে রেখেছেন। প্রতিযোগিতা না থাকায় দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ফেরাতে আমদানিকে সহজ করা ছাড়া বিকল্প নেই। অনেক অর্থনীতিবিদ মত দিচ্ছেন, অন্তত তিন মাসের জন্য চাল আমদানিতে শুল্ক তুলে নেওয়া হোক, দেখা যাক তাতে বাজারে প্রতিক্রিয়া কেমন হয়।

 

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সুদের হার বাড়িয়ে বাজারে টাকা সরবরাহ কমানো হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতির গড় হার কিছুটা কমলেও এখনো তা ৯ শতাংশের উপরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা জরুরি। বিশেষ করে চালের মতো প্রধান খাদ্যশস্যে কোনো ঘাটতি তৈরি হলে তা পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, বাংলাদেশ এখনো চাল উৎপাদনে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই সঠিক সময়ে আমদানি নিশ্চিত করতে না পারলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়। এ ঘাটতি সহজেই ব্যবসায়ীদের জন্য অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু এখন দেশের বাজারে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম, তাই আমদানির পথ খুলে দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ না করলে সাধারণ মানুষ আরও বড় চাপে পড়বে।

সরকারি হিসেবে বর্তমানে খাদ্যশস্যের মজুত প্রায় ১৮ লাখ টন। এর মধ্যে ১৫ লাখ টনের বেশি চাল। তবে সেটি কতদিন চলবে বা চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষ এখনও চাল নির্ভর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। তাই চালের বাজারে অস্থিরতা মানেই পুরো খাদ্যপণ্যের বাজারে চাপ। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে আগামী দিনে সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

 

সংক্ষেপে, বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি শুধু একটি পণ্য সমস্যার বিষয় নয়, এটি একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে সাধারণ মানুষ। চালের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। তা না হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা—সবই হুমকির মুখে পড়বে।




Ads

যেখানে সংকট সেখানেই ভরসা সেনাবাহিনী

যেখানে সংকট সেখানেই ভরসা সেনাবাহিনী
ছবি সংগৃহীত।

ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা যখন বুক পেতে দিয়েছিল তখন সেনাবাহিনীই ছিল একমাত্র ভরসা। বিগত ১১ মাসে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী যখন অসহায় তখন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় সেনাবাহিনী। দীর্ঘ সময় ব্যারাকের বাইরে থেকে দেশসেবায় আত্মনিবেদিত আমাদের সশস্ত্র বাহিনী। গতকাল গোপালগঞ্জে যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটল তাতে আবারও প্রমাণ হলো সংকটে সেনাবাহিনীই ভরসা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও আখতার হোসেন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে (এপিসি) করে গোপালগঞ্জ ছাড়েন। প্রথমে তাঁরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। সেখান থেকে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে গোপালগঞ্জ ছাড়ার ব্যবস্থা করেন। তার আগে সেখানে এনসিপির সমাবেশে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালালে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

সংকটে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর এই ভূমিকার উদাহরণ অনেক। গত বছর ২৫ আগস্ট সচিবালয়ে হাসনাত আবদুল্লাহসহ ৫০ জন শিক্ষার্থী আন্দোলনরত আনসার সদস্যদের হামলার শিকার হন। সে সময়ও সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যায়। হাসনাত আবদুল্লাহসহ গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকার সিএমএইচে ভর্তির ব্যবস্থা করে। কিন্তু দেড় মাস আগেও এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম সেনাবাহিনীর অবস্থান ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রংপুরে জাতীয় পার্টির নেতা জি এম কাদেরের বাড়িতে হামলা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, পুরোনো বাইক আর সামান্য আগুন নিয়ে যাদের এত চিন্তা তারা বিগত ৯ মাসে আওয়ামী সন্ত্রাসী খুনিদের ধরতে কয়টা অভিযান চালিয়েছে? কতজনকে গ্রেপ্তার করেছে?

 

সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিশেষ মহলের এমন প্রশ্নের ঘটনা ওই একটিই নয়। এনসিপির আরেক নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ গত মার্চে নিজের ফেসবুকে সেনাপ্রধানকে ইঙ্গিত করে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি তাঁর নিজের দলকেই অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। এনসিপির আরেক নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হাসনাতের ওই ফেসবুক স্ট্যাটাস শিষ্টাচারবর্জিতহয়েছে বলে এক দিন পর মন্তব্য করেন। হাসনাত আবদুল্লাহর পোস্টের কাছাকাছি সময়ে অন্তর্র্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও সেনাপ্রধানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। তবে সেনাবাহিনী এসব বিষয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। হাসনাত আবদুল্লাহর শিষ্টাচারবর্জিত মন্তব্যের বিষয়ে সেনাসদরের বক্তব্য হিসেবে সুইডেনভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম নেত্রনিউজ জানায়, হাসনাতের বক্তব্য অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ব গল্পের সম্ভার

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর সেনাপ্রধান বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশ গঠনে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, আ যেখানে সংকট সেখানেই ভরসা সেনাবাহিনী
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রিন্ট ভার্সন
যেখানে সংকট সেখানেই ভরসা সেনাবাহিনী

ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা যখন বুক পেতে দিয়েছিল তখন সেনাবাহিনীই ছিল একমাত্র ভরসা। বিগত ১১ মাসে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী যখন অসহায় তখন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় সেনাবাহিনী। দীর্ঘ সময় ব্যারাকের বাইরে থেকে দেশসেবায় আত্মনিবেদিত আমাদের সশস্ত্র বাহিনী। গতকাল গোপালগঞ্জে যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটল তাতে আবারও প্রমাণ হলো সংকটে সেনাবাহিনীই ভরসা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও আখতার হোসেন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে (এপিসি) করে গোপালগঞ্জ ছাড়েন। প্রথমে তাঁরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। সেখান থেকে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে গোপালগঞ্জ ছাড়ার ব্যবস্থা করেন। তার আগে সেখানে এনসিপির সমাবেশে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালালে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

সংকটে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর এই ভূমিকার উদাহরণ অনেক। গত বছর ২৫ আগস্ট সচিবালয়ে হাসনাত আবদুল্লাহসহ ৫০ জন শিক্ষার্থী আন্দোলনরত আনসার সদস্যদের হামলার শিকার হন। সে সময়ও সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যায়। হাসনাত আবদুল্লাহসহ গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকার সিএমএইচে ভর্তির ব্যবস্থা করে। কিন্তু দেড় মাস আগেও এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম সেনাবাহিনীর অবস্থান ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রংপুরে জাতীয় পার্টির নেতা জি এম কাদেরের বাড়িতে হামলা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘পুরোনো বাইক আর সামান্য আগুন নিয়ে যাদের এত চিন্তা তারা বিগত ৯ মাসে আওয়ামী সন্ত্রাসী খুনিদের ধরতে কয়টা অভিযান চালিয়েছে? কতজনকে গ্রেপ্তার করেছে?’

সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিশেষ মহলের এমন প্রশ্নের ঘটনা ওই একটিই নয়। এনসিপির আরেক নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ গত মার্চে নিজের ফেসবুকে সেনাপ্রধানকে ইঙ্গিত করে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি তাঁর নিজের দলকেই অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। এনসিপির আরেক নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হাসনাতের ওই ফেসবুক স্ট্যাটাস ‘শিষ্টাচারবর্জিত’ হয়েছে বলে এক দিন পর মন্তব্য করেন। হাসনাত আবদুল্লাহর পোস্টের কাছাকাছি সময়ে অন্তর্র্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও সেনাপ্রধানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। তবে সেনাবাহিনী এসব বিষয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। হাসনাত আবদুল্লাহর শিষ্টাচারবর্জিত মন্তব্যের বিষয়ে সেনাসদরের বক্তব্য হিসেবে সুইডেনভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম নেত্রনিউজ জানায়, ‘হাসনাতের বক্তব্য অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ব গল্পের সম্ভার’।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর সেনাপ্রধান বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশ গঠনে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, আমি সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে হস্তক্ষেপ করতে দেব না- এটা আমার স্পষ্ট অঙ্গীকার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাও চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে দেশসেবায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার ব্যাপক প্রশংসা করেন। গত ৬ অক্টোবর সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে ‘সেনা সদর নির্বাচনি পর্ষদ ২০২৪’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং একটি অন্তর্র্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে দেশকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করেছে। ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারও দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।’মি সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে হস্তক্ষেপ করতে দেব না- এটা আমার স্পষ্ট অঙ্গীকার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাও চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে দেশসেবায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার ব্যাপক প্রশংসা করেন। গত ৬ অক্টোবর সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে সেনা সদর নির্বাচনি পর্ষদ ২০২৪-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং একটি অন্তর্র্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে দেশকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করেছে। ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারও দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।




Ads

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি


পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে গোপালগঞ্জ। সেখানে সমাবেশ শেষে মাদারীপুর যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর।


এরপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। শেষ খবর পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলছিল। এ অবস্থায় জেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

বুধবার (১৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান। 




Ads

‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষ্যে আজ রাষ্ট্রীয় শোক

‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষ্যে আজ রাষ্ট্রীয় শোক
ছবি সংগৃহীত।


‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষ্যে আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে। কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ শহীদ হন। এ দিনটিকে সরকার ‘জুলাই শহীদ দিবস’ ঘোষণা করেছে


দিবসটি উপলক্ষ্যে বুধবার (১৬ জুলাই) রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত ২ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার প্রতি বছর ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং ওইদিন ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের নিমিত্তে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২১ অক্টোবর-২০২৪ তারিখের পরিপত্রের ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।


দিবসটি উপলক্ষ্যে বুধবার বাংলাদেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।


এ ছাড়া শহীদদের রুহের মাগফিরাতের জন্য বুধবার বাংলাদেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।



দৈনিক সাম্পান

Latest News

ক্যাটাগরি