Ads

শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

মাদ্রাসা থেকে ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওই শিক্ষকের নাম বেলাল উদ্দিন।
তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের শীলখালী সবুজপাড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে।  
শনিবার (১২ জুলাই) ভোরে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে লোহাগাড়া থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, লোহাগাড়া উপজেলার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক বেলাল উদ্দিন শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে ওই শিশু শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা থেকে অপহরণ করে চকরিয়ায় একটি হোটেলে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা জানালে শিশুটিকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় ওই শিক্ষক।  

লোহাগাড়া থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, অপহরণের আগেও শিক্ষক বেলাল উদ্দিন শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করেছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মামলা করেছেন।




Ads

চট্টগ্রামে খুন প্রতিদিনই

চট্টগ্রামে খুন প্রতিদিনই
ছবি সংগৃহীত।

 

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম পরিণত হচ্ছে অপরাধের নগরীতে। মাদক কারবার, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং ফুটপাত দখল করে অবৈধ বাণিজ্যের মতো ঘটনায় সাধারণ মানুষ দিশাহারা। এখানে খুন পরিণত হয়েছে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হিসেবে। চলতি বছর খুন হয়েছে কমপক্ষে ১২০ জন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান সত্ত্বেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, যা নগরবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল বলেন, খুন ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। জেলার সব ইউনিট কাজ করছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে। চালানো হচ্ছে অভিযান। সিএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহমুদা বেগম বলেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সিএমপির সব ইউনিট কাজ করছে। বাড়ানো হয়েছে টহল।

জানা যায়, অপরাধের নগরীতে পরিণত হচ্ছে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রাম। মাদকব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ দৌরাত্ম্য, বেপরোয়া চাঁদাবাজির মতো ঘটনায় জর্জরিত বন্দরনগরীর সাধারণ মানুষ। প্রতিনিয়ত খুনাখুনি হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযানের কথা বলা হলেও অপরাধের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর। ফলে সব মহলে বাড়ছে গভীর উদ্বেগ। চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের অন্যতম চালিকাশক্তি এখন মাদক। বিশেষ করে ইয়াবা ও আইস। টেকনাফ ও কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে আসা মাদকের একটি বড় অংশ চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। নগরীর অলিগলিতে হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা ইয়াবা, আইসসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। এর ফলে তরুণ ও যুবসমাজ। তাদের হাতে প্রায়ই ঘটছে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা। নগরী ও জেলায় খুন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আন্ডারওয়ার্ল্ড কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা কিংবা পারিবারিক কলহের জেরে ঘটছে একের পর এক হত্যাকা । চলতি বছরে চট্টগ্রামে খুন হয়েছে কমপক্ষে ১২০ জন।

নগরীতে গত কয়েক বছরে ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত হয়েছে ‘কিশোর গ্যাং’ সংস্কৃতি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এবং স্থানীয় ‘বড় ভাইদের’ মদদে এসব গ্যাং গড়ে উঠেছে। আধিপত্য বিস্তার, ছিনতাই, মারামারি এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে এসব কিশোররা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছুরি, পিস্তল নিয়ে মহড়া দেওয়া এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা তাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পেছনেও এসব কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। যা নগরবাসীর মনে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে অসহায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে সক্রিয় রয়েছে শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। পরিবহন খাত, নির্মাণাধীন ভবন, ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বিস্তৃত তাদের চাঁদাবাজির জাল। চাঁদা না দিলেই নেমে আসে হুমকি, হামলা ও নির্যাতনের খড়গ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান মৌমিতা পাল বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা, সামাজিক অবক্ষয়, বেকারত্ব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা চট্টগ্রামে অপরাধ বাড়ার অন্যতম কারণ। শুধু পুলিশি অভিযান দিয়ে এ সমস্যার মূল উৎপাটন সম্ভব নয়। কিশোরদের জন্য সুস্থ বিনোদন ও সঠিক পথের দিশা তৈরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে না পারলে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন।




Ads

সাবেক চেয়ারম্যানকে ধরে পুলিশে দিল বৈষম্যবিরোধীরা

সাবেক চেয়ারম্যানকে ধরে পুলিশে দিল বৈষম্যবিরোধীরা
ছবি সংগৃহীত।


মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে ধরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইনজামুল হক জসিমকে পুলিশে দিয়েছে বৈষম্যবিরোধীরা।


শনিবার (১২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে  চট্টগ্রাম নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকার একটি রেস্তোরা থেকে বৈষম্যবিরোধী ও এনসিপি নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশের কাছে তুলে দেয়। জসিম কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

বৈষম্যবিরোধীদের অভিযোগ, হত বছরের জুলাই-আগস্টে পটিয়ায় ছাত্রদের ওপর হামলার নেতৃত্ব দেন ইনজামুল হক জসিম।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান জানান, শনিবার রাতে তাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় ছাত্র-জনতা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ তাকে আটক করে


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তওসিফ ইমরোজ তার ফেসবুক পোস্টে জসিম চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের ভিডিও ও ছবি পোস্ট করে লিখেন- ‘যেসব আওয়ামী লীগের দোসররা মনে করে জুলাই হারিয়ে গেছে, তারা মুক্ত বাতাসে ঘুরত পারবে, আমি বলি তারা ঘুমের ঘোরে আছে। আমরা আওয়ামী লীগের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেব না।’

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘তাকে আটকের পর আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করার কাজ চলছে।’




Ads

৭ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ২ ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষা দিলেও পাস করেনি কেউ

৭ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ২ ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষা দিলেও পাস করেনি কেউ
ছবি সংগৃহীত।


চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ হাজার ১৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে একমাত্র ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার শূন্য। বিদ্যালয়টি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র দুজন শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের পর বিষয়টি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টিকে ‘দুঃখজনক ও লজ্জাজনক’ বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকেই।


বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি শওকত হোসেন সিকদার বলেন, বিদ্যালয়টি ২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তবে এমপিওভুক্ত হয়নি। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পক্ষে ফরম পূরণের খরচ বহন করা সম্ভব হয়নি। তাই আমি দিয়েছি। পরীক্ষার্থীরা পাস না করায় কষ্ট পেয়েছি। তবে এখানকার শিক্ষার্থীরা অনেকেই অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত।

তিনি বলেন, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং ৭ জন শিক্ষক আছেন।


উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, কেউ পাস না করাটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমি কয়েকবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। কয়েকজন শিক্ষার্থী দেখলেও সেখানে তেমন শিক্ষক নেই। প্রায় ৭০ বছর বয়সী একজন প্রধান শিক্ষক দায়িত্বে আছেন। দুজন পিয়ন ও কর্মচারী রয়েছেন। তবে সাতজন শিক্ষক রয়েছেন— এমন তথ্য সঠিক নয়। সম্ভবত এমপিও আবেদন করার জন্য কাগজে-কলমে সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা নেই।

জানা গেছে, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৭২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৪৩ শিক্ষার্থী


ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের এবার ২১৯ কেন্দ্রে ১ হাজার ১৬৪ স্কুলের মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ছাত্রী সংখ্যা ছিল ৭৮ হাজার ৭২৫ এবং ছাত্র সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ৬৬৩। এবার ছাত্রীর পাসের হার ৭২ দশমিক ১৯ এবং ছাত্রের পাসের হার ৭১ দশমিক ৯৩। এছাড়া ৬ হাজার ৩৫৩ ছাত্রী এবং ৫ হাজার ৪৯০ ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে।


ফলাফলে এবার শূন্য থেকে ১০ শতাংশ পাস করেছে এমন স্কুলের সংখ্যাও একটি, ১১ থেকে ৫০ শতাংশ পাস করেছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৫৯, ৫১ থেকে ৯৯ শতাংশ পাস করেছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯৭০টি এবং শতভাগ পাস করেছে ৩৩ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।



দৈনিক সাম্পান

Latest News

ক্যাটাগরি